হাত তুলে ওয়াদা করেন, নৌকায় ভোট দেবেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

জনসভায় উপস্থিত জনতার কাছ থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  মঙ্গলবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে লাখো মানুষের জনসভায় তিনি বলেন, আপনারা অতীতে নৌকায় দিয়েছেন। নৌকা স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নৌকা মার্কার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশ পিছিয়ে যায়। আগামী ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে চার বছর পূর্ণ করে এখন পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছি। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা পুণ্যভূমি সিলেট থেকে শুরু করেছি। বিগত নির্বাচনে নৌকায় সবাই ভোট দিয়েছিলেন। তাই আজ বাংলার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।
সভায় নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নেতাকর্মী-সমর্থক ও জনতাকে হাত তুলে অঙ্গীকার করতে বলেন। উপস্থিত লাখো জনতাও হাত তুলে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে।
সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নের ছোঁয়া সিলেটের প্রতিটি ইউনিয়নে পৌঁছে দিয়েছি। সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আজ একযোগে ৩৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ জনগণের জীবনের মান উন্নয়ন করে। আমি আজ সিলেটে এসেছি। আমাদের নির্বাচনের প্রচারণা শুরু এখান থেকেই শুরু। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাদের আমলে বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-নাশকতা কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে; আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে। আমরা কঠোর হস্তে সেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করি। বিএনপির সময় বাংলা ভাই, আবদুর রহমান তৈরি হয়, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হয়। বিএনপি ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আমাদের নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রলবোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রলবোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫শ’ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখন ধুঁকছেন। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে তিন হাজার ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা হাজার হাজার গাড়ি, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ রকম ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হবে মানুষের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ধ্বংস করার জন্য। তারা পারে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করতে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটের চা উত্পাদন যেন বৃদ্ধি পায়, তার ব্যবস্থা করছি। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। সিলেট থেকে যাতে চায়ের নিলাম হয়, তার জন্য নিলাম কেন্দ্র করছি। দেশের প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। ঘরে বসে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার প্রযুক্তিগত সুযোগ আমরা দিয়েছি। ৮ হাজার ৫শ’ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি, ওষুধ দিচ্ছি। সিলেটে আমরা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের টাকায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীদের জন্য তিনটি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি হয়ে গেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী ক্ষমতায় থাকলে দেশেল সুনাম হয়। দেশ পুরস্কার পায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস হয়ে যায় তাদের মূল কাজ। এই দেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশে এত উন্নয়ন হতো না। আওয়মী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। তা করেছি। জাতির জনকের খুনিদের বিচার করেছি। বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। প্রত্যেক মা, বোন, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক, সকল অভিভাবক সবাইকে নিজেদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশি দিন অনুপস্থিত কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, সিলেট আজ শান্তির নগরী। এই শান্তি যেন বজায় থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে, যাতে সিলেটের সব পাড়া-মহল্লায় শান্তি বজায় থাকে। আমরা বীরের জাতি, বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে আমরা উন্নত করে গড়ে তুলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের জন্য বাংলাদেশকে কার কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আপনারা শুনলেন অবাক হবেন, বিএনপির খালেদা জিয়া, তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। তাতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। যারা নিজেদের ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারা কিভাবে দেশের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
সূত্রঃ মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Share.

Leave A Reply