নলছিটিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলা দিয়ে তিন সন্তানের জনককে হয়রানির অভিযোগ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝালকাঠির নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দিয়ে তিন সন্তানের জনক এক ব্যাক্তিকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলায় শাহীন মীর (৪৮) নামে ওই ব্যক্তি আটক হয়ে এখন ঝালকাঠি কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বুধবার ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন হয়রানির শিকার মো. শাহীন মীরের ভাই সুলতান মীর। সংবাদ সম্মেলনে শাহীন মীরের স্ত্রী জেসমিন বেগম, এক ছেলে ও এক মেয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ষাটপাকিয়া গ্রামের মৃত মীর শাহজাহানের ছেলে শাহীন মীরদের সঙ্গে একই বাড়ির মৃত খালেক খানের ছেলে মাসুম খানের বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মাসুম খান আর শাহীন মীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। ফরাজের জমি পেয়ে মাসুম খান পরিবার নিয়ে মীরা বাড়িতে বসবাস করেন। শাহীন মীরদের জব্দ এবং হয়রানি করার জন্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি মাসুম খানের স্ত্রী ইমা আক্তার (৩০) বাদী হয়ে তাঁর সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে শাহীন মীর ধর্ষণচেষ্টা করেছে বলে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নলছিটি থানা পুলিশ ওই মামলায় শাহীন মীরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
সংবাদ সমে¥লনে অভিযোগ করা হয়, মাসুম খানের সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে চার বছর দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। যে শাহীন মীরকে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি করা হয়েছে, সেই শাহীন মীরের বয়স ৪৮ বছর। তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে বিবাহিত, বড় ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহীন মীরের বড় ভাই বলেন, যার মেয়ে বিবাহিত আর এক মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে, সে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা করতে পারে, এটা কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। অথচ নলছিটি থানা পুলিশ প্রভাবশালীদের ইঙ্গিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলা নিয়েছে এবং আমার নিরাপরাধ ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা এ মিথ্যা মামলা থেকে শাহীন মীরের নাম প্রত্যাহার এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।
মামলার বাদী ইমা আক্তার বলেন, আমি কোনো মিথ্যা মামলা করিনি। শাহীন মীর আমার মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা করেছে এবং আমার মেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দী দিয়েছে। একটা চার বছরের শিশু কি মিথ্যা কথা বলতে পারে?
নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল হালিম তালুকদার বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামি গেপ্ততার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে। আসামি শাহীন মীরের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, আমার স্বামী এ ধরণের কাজ করতে পারে না, তাঁর দুইটা যুবতী মেয়ে রয়েছে। আমাদের বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে এ মামলা করা হয়েছে ।

Share.

Leave A Reply