নলছিটিতে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধা সেই সন্তানকে দেয়া হলো সংবর্ধনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত সেই মমতামীয় মা ও ছেলেকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কক্ষে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মা স্কুল শিক্ষিকা রেহেনা বেগম ও ছেলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান টিটুর হাতে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেই মা ও ছেলে। বিষয়টি মিডিয়ায় তুলে ধরায় কৃতজ্ঞতা জানান সাংবাদিকদের প্রতি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নলছিটি প্রেসক্লাবের য্গ্মু-সম্পাদক মিলন কান্তি দাসের সঞ্চালনায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক কে এম সবুজ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অলোক সাহা, ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আল আমিন তালুকদার ও সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

গত ৯ এপ্রিল রেহানা বেগমের করোনা শনাক্ত হলে নলছিটির সূর্যপাশা বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ১৭ এপ্রিল দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন চিকিৎসকরা। লকডাউনের মধ্যে কোন গাড়ি না পেয়ে সংকটাপন্ন মায়ের জীবন বাঁচাতে মোটরসাইকেলে ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতে নিয়ে ভর্তি করায়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ছবি তুলে এক পুলিশ সদস্য ফেসবুকে আপলোড করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। হাসপাতালে মায়ের সেবাযত্ম করেছেন দুই ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু ও রাকিবুল হাসান ইভান। ৬ দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ অবস্থায় মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। মা সুস্থ হলেও করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েন টিটু। ১৫ দিন বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে ৯ মে সুস্থ হয় সে। এ ঘটনা নিয়ে দেশ ও বিদেশের মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয়। সেই মা ও ছেলেকে সংবর্ধনা দিলেন উপজেলা প্রশাসন।

Share.

Leave A Reply